অভিমান
ডিসেম্বর 19, 2009
তুমি আছো (ডঃ নওয়াজেশ আহমেদ স্মরণে)
ডিসেম্বর 19, 2009
তুমি আছো
স্তব্ধ রাতের তারার মাঝে
তুমি আছো
রবীন্দ্রনাথের ‘ছিন্নপত্রে’
তুমি আছো
জীবনানন্দের ‘ধানসিঁড়ি নদীটির পাশে’
তুমি আছো
কোন সীমাহীন নিসর্গতায়,
কোন কবিতার উপমায়;
তুমি আছো রমনার বটমূলে
পহেলা বৈশাখের গানে আর
বসন্তের আনন্দ উৎসবে;
তুমি আছো কীর্তনখোলায়
কিংবা নাম না জানা
কোন গ্রামের মেঠোপথে,
স্নিগ্ধ কাশবনে;
তুমি আছো ঘাসফুলের উপর
ভোরের শিশিরকণায়;
সবকিছুর মাঝেই তোমায় খুঁজে পাই আমি
তাই কোথাও আর খুঁজতে যাইনা তোমায় !
নিঃসীম চন্দ্রালোক আর আমি
ডিসেম্বর 11, 2009
রাত দ্বিপ্রহর
নিবিড় রাতের নিস্তব্ধতা
ভেঙে দিয়ে
দেয়ালঘড়িটা বেজে উঠলো
ঢং..ঢং..ঢং…
সেই শব্দ ছাপিয়ে উঠলো
অবগুন্ঠনে ঢাকা
সমস্ত বিশ্ব চরাচরে,
তারপর..
সেই অন্তহীন-স্তব্ধ-মৌন রাত;
মুগ্ধ আঁখি মেলে
বিস্ময়ে কি এক আবেশে
অনিমেষ আমি চেয়ে রই
সঘন আঁধারে,
বিমূর্ত রাত যেন বয়ে চলেছে
অনন্ত অনাদিকাল ধরে,
চন্দ্রালোক ঢেলেছে সুধা-বারি
অসীম আকাশে-
কি শান্ত, সৌম্য রূপ! কি স্নিগ্ধতা!
ইচ্ছে করছে অবগাহন করি
এই নিঃসীম চন্দ্রালোকে,
সমস্ত পৃথিবী যখন তন্দ্রাচ্ছন্ন
মগ্ন ঘুমের ঘোরে-
তখন কি অপার সৌন্দর্য
ঢেলেছো তুমি
এই পারাবারে-কিসের তরে!
অনন্ত অম্বরে
ডিসেম্বর 4, 2009
তারপর মেয়েটা হাঁটতে থাকে
একা রেললাইন ধরে
দৃষ্টি দূরে- অনেক দূরে
হাঁটতে হাঁটতে
ক্রমশঃ দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়
পথও একসময় ফুরিয়ে আসে
কিন্তু তার পথচলা
আর শেষ হয়না;
মনে পড়েনা ঠিক কবে থেকে
এই ছুটে চলা শুরু-
না, এসব আর ভাবতে চায়না
জীবনের এমন এক প্ল্যাটফর্মে ও দাঁড়িয়ে
যেখান থেকে কোনদিন
কোন ট্রেন ছেড়ে যায়না,
কোন ট্রেন এসে থামেনা
শুধু দূর থেকে ছুটন্ত ট্রেনকে
চলে যেতে দেখা যায়।
তবুও মেয়েটা অপেক্ষায় থাকে
ট্রেন আসবে বলে-
এভাবে বেঁচে থাকা চলেনা
এ জীবনের কোন মানে নেই।
দূরে একটা ট্রেন আসার
শব্দ শোনে,
ও থমকে দাঁড়িয়ে শোনে
মৃত্যুর পূর্বমূহুর্তে কোন
আনন্দের মূহুর্ত ভাবতে চায়
রাত শেষ হয়ে আসে
রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে দিয়ে
ট্রেন আসে-
একে একে রাতের মৌন আকাশের
তারাগুলো ঝরে যায়।
ট্রেনটা ওর সামনে এসে
হঠাৎ থেমে যায়
মেয়েটা কিছু না ভেবেই
ট্রেনে উঠে পড়ে,
ও জানেনা ওর গন্তব্য কোথায়-
শুধু ছুটে চলে
দূরে…দূরে…বহুদূরে…
কোন সীমাহীন অনন্ত অম্বরে।।
সীমাবদ্ধ
নভেম্বর 13, 2009
একটা ছায়ামূর্তি-
কদিন থেকেই
আমার পিছু নিয়েছে
প্রথমদিকে
আমি ব্যাপারটাকে মোটেই
পাত্তা দিইনি-
আমি যেখানেই থাকিনা কেন
ও ঠিক সেখানেই চলে যায়
কিছুতেই আমাকে
একা থাকতে দেয়না,
দেখতে ঠিক যেন আমারই মতো
কিন্ত্ত একটু গম্ভীর-ভাবুক
চোখেমুখে এক অদ্ভুত নির্লিপ্ত ভাব;
কি যেন ভাবে ও সবসময়-
যা ইচ্ছে ভাবুক
কিন্ত্ত কেন আমার পিছু নেবে
আমি মানতে পারিনা কিছুতেই।
একদিন-
আমি ওকে ধরেই ফেলি
বলি,”তুমি কে ?
কি চাও তুমি ?
কেন এভাবে আমার পিছু নিয়েছো ?”
কোন প্রত্যুত্তর নেই….
তারপর কেটে যায় সুনসান কিছুক্ষণ
অনাবশ্যক নীরবতা ভেঙে সে বলে,
“আমি ? আমাকে চিনতে পারছোনা ?
ভালো করে চেয়ে দেখো।”
আমি চেয়ে থাকি-
”কে তুমি ? বলো এখনই।”
”আমি…আমি তোমার অতীত,
বহুযুগ পার হয়ে বহুপথ ধরে
ফিরে এসেছি তোমার কাছে,
তোমার জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া
প্রতি মূহুর্ত-প্রতিটি আনন্দ
তোমায় ফিরিয়ে দিতে;
তুমি এখন ভীষণ ক্লান্ত-শ্রান্ত
সীমাবদ্ধতার বৃত্তে আজন্ম ঘুরে ঘুরে
তোমার শক্তি আজ নিঃশেষ-
আর সময় নেই, চলো এখনই
বেরিয়ে এসো তুমি…..”
আমিও কিছু না বলে
মন্ত্রমুগ্ধের মতো বেরিয়ে পড়ি।
শিরোনামহীন কবিতা
অক্টোবর 30, 2009

কবিতার খাতা নিয়ে বসেছি
কবিতা লিখবো বলে
আমাকে আজ লিখতেই হবে
কোন দায়বদ্ধতা থেকে নয়;
লিখতে হবে নিজের জন্যে
কর্মহীন-চিন্তা ভাবনাহীন মনের গভীরে
অনেকদিন ধরে জন্মানো অবসাদ-ক্ষতকে
মুছে দিতে-
সৃষ্টি হিসাবে হয়তো এটা বিশেষ কোন শিল্পকর্ম
কিংবা বিখ্যাত কোন চিত্রশিল্পীর
চিত্রকর্মের মত
অসাধারণ কিছু হবেনা, তবুও
নিতান্তই সাদামাটা একটা কবিতা।
যে কবিতা লিখতে পারিনি
বহুদিন লিখতে চেয়েও
যে কবিতা এতদিন ধরে
হৃদয়ের অন্ধকার-বদ্ধ কুঠুরীতে
বন্দী-নিষ্পেশিত ছিলো
সে কবিতাটি যেন আজ
নতুন করে লেখা হলো।
নিঃসঙ্গ সেই লোকটি
সেপ্টেম্বর 10, 2009

নিঃসঙ্গ লোকটি
একাকী পথে হেঁটে চলে
সেই নিঃসঙ্গতার মৌন সুরে
কি যেন খুঁজে ফেরে
অন্তবিহীন বেজে চলে তার
অনন্ত বেদন-বাঁশি।।
দিশেহারা সেই লোকটি
যার চোখজুড়ে
শুধুই স্বপ্ন;
শূন্যহাতে- আঁধার রাতে
সেই স্বপ্নালু চোখে
যেতে যেতে অবশেষে
আত্মমগ্ন-সৌম্য-শান্ত-স্তব্ধ-লীন
বিস্মৃতির অতলে নিমগ্ন…।।
ভিনসেন্ট ভ্যানগগের জীবন ও শিল্পকর্ম
জুলাই 31, 2009

“ছবি এঁকে কিছু বলতে চাই আমি, আর তাতেই সঙ্গীত যেমন সান্ত্বনা দেয় তেমনি সান্ত্বনা পাবো “ বলেছিলেন ভিনসেন্টভ্যান গগ- পৃথিবীর মহান শিল্পীদের একজন, জন্মেছিলেন হল্যান্ডে ১৮৫৩ সালে। সেজান, গঁগা এবং ভ্যান গগ স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে ভাস্কর এই তিন শিল্পীই আধুনিক শিল্পের পূর্বসূরী হিসেবে চিন্হিত। সাতাশ বছর বয়সে শিল্পকর্মে নিবেদিত হয়েছিলেন ভ্যান গগ। অতীত এবং সমকালীন শিল্প সাহিত্য জগত সম্বন্ধে ভিনসেন্ট এর প্রচুর জ্ঞান ছিলো; নিজের মননে সব কিছুর সম্মিলন ঘটিয়ে শিল্প জগতে এক নতুন পথের সন্ধান দিয়ে গেছেন।
“কখনো কখনো অনির্বচনীয় অনেক কিছু থাকে, সমস্ত প্রকৃতিটা যেন মনে হয় কথা বলতে চায়; এ জিনিসটা সবাই দেখতে পায় না, অনুভব করতে পারেনা। যার চোখ আছে, কান আছে, হৃদয় আছে তার জন্যেই ঈশ্বর এ সৌন্দর্য করে রেখেছেন। এ কারণেই আমার মনে হয় একজন শিল্পী সুখী, সে যা দেখে তার একটুখানিও প্রকাশ করতে পারলে প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে যায়।
আমি আমার কাজের মধ্যে এমন কিছু খুঁজে পেয়েছি যার ভেতর আমার হৃদয় ও আত্মা সম্পূর্ণ দিয়ে নিবেদিত থাকতে পারি এবং যা আমার বেঁচে থাকা অর্থময় করে, অনুপ্রাণিত করে।“
এই মায়াবী তিথি
জুলাই 30, 2009

এই মায়াবী নিঝুম রাতে
রয়েছি তোমার সাথে
ওগো তুমি বিনা যেন
এ নিশি নাহি কাটে।
মনে মনে ভাবি বসে তাই
এ ক্ষণ যেন অনন্তকাল রয়
এ প্রহর যেন কখনো না ফুরায়।
মৌনতার সুর বেজে ওঠে
রাতের আকাশে
নিঃসীম তারার মাঝে
চাঁদ একা জেগে হাসে।
কিছু কথা হয় যে বলা
কিছু থাকে অধরে
এ মধু লগনে সেজেছি আমি পুষ্পহারে
তন্দ্রাহারা রাতে হারাব
দুজনে আজ নিরন্তরে।
অনন্ত বিরহ
জুলাই 11, 2009
জানি ফুরাবে না এই বিরহ যামিনী
নিভে যাবে প্রদীপখানি
আঁধারে হারাবে পারাবার
তবু ঘুচবে না এ ব্যথা মোর।।
ভালোবেসে যদি সুখ নাহি হায়
তবু কেন মিছে ভালোবেসে যাই
চোখের জলে লেখা থাকে
সে বেদনার চরাচর।।
তোমার আমার এই বিরহ
অনন্তকাল জাগে
হারায়ে আবার ফিরে যদি পাই
সেই শিহর লাগে।
তোমা লাগি আমি রয়েছি দাঁড়ায়ে
দু‘বাহু বাড়ায়ে অসীম আঁধারে
যেন হেরি তব মুখ
রাতের ম্লান চন্দ্রালোকে
তোমার পরশ বেজে ওঠে শুনি
নিঠুর পাথারে কোন নীরব বাঁশির সুরে।।
Ikiru-(to live) A film by Kurosawa
জুন 27, 2009
For the last few days I was just thinking about writing about my other passion- that is Film. I’m an avid movie lover who is always smitten by those all time classic movies , detective, horror, foreign film and even children films and keen on talking about film and film criticism.
In this regard, I can’t help sharing some reviews of my all time favourite films -Ikiru is one of them.
Ikiru is a 1952 Japanese film co-written and directed by Akira Kurosawa. The film examines the struggles of a Tokyo bureaucrat and his final quest for meaning of life. Kanji Watanabi is a quiet, melancholy man who has spent all his life behind his office desk doing sweet eff-all. Gray and unemotional, he’s less a man than a stolid piece of furniture.When he is diagnosed with stomach cancer he realizes that he has been petty much dead his whole life, and searches desperately for away to live again.
This is Akira Kurosawa’s masterpiece- a perfect true story of everybody’s life- how we don’t even realize we have it until we know it will be over in a short while. Watanabi’s quest for self-discovery is one of the greatest from any motion picture ever made. The all-too-true paradox is one to end all paradoxes- that Watanabi is dead, and had been all his life, until he realized he was sick, which is when he began living for the first time.
This film is about the importance of saying yes- to life, to adventure, to human need. Ikiru, which means “to live,” The movie sends the protagonist on a journey through Tokyo’s night town to demonstrate that, no, his life as husband, father, worker didn’t make a difference. He might as well never have been born.
Kurosawa makes Watanabe’s conversion, revival, resurrection as inspiring as it is pure. And Shimura, a superb actor, makes his character a plausible saint, who can find poetry in a simple song or sitting on a playground swing.
তুমি নেই বলে
জুন 13, 2009
তুমি নেই বলে বিষন্ন বাতাসে
শুনি কিসের গুন্জন
মর্মরধ্বনি জাগে বনে
কি আকুলতা বাজে অনুক্ষণ।
ভ্রমরের গুন্জন নেই
মাধবী ঝরে হায়
কাঁঠালচাঁপার বনে
বিরহী কেঁদে যায়।
সাগরের ঢেউয়ে যেন
সেই বেদনা ভাসে
আকাশে চাঁদ জেগে রয়
কিসের আশে।
কোথা তুমি বিজনে রয়েছো সঙ্গোপনে;
শূন্য পথপানে ভ্রমি তোমার ছায়া
একি বাঁধনে জড়ালে মোরে
কিসের এ মায়া।।
নীরব নিশীথে
জুন 1, 2009

নিস্তব্ধ প্রকৃতির মাঝে শুনেছি এক অপূর্ব গান
যে গান কখনও শোনার পাইনি অবসর
প্রকৃতি যেন মেতেছে আজ আনন্দ গানে
নিশীথ রাতের ঐ আকাশের পর।
দূরে ঐ সাঁঝ আকাশের কোলে
চাঁদের হাসি পড়ছে উছলে
নদীতে ঢেউ চলেছে বয়ে আপন মনে
মন ছুটেছে সাগরের হিল্লোলে।
আমি কেন ছিলাম বসে ক্ষুদ্র এ মন নিয়ে
ইচ্ছে হলো আকাশের ঐ বিশালতায় যাই হারিয়ে।
তাই তো আমি বের হলাম আজকে রাতে
জোনাকী আজ সঙ্গী হলো আমার সাথে
অচেনা যত ফুল ফুটেছে আঁধার মাঝে
সুরভিত করলো তারা আমার মন।।
চিরদিনের ছুটি
মে 29, 2009

নিশীথ রাতের তারা যত
এসে আমার দ্বারে
তন্দ্রা ঘোর টুটিয়ে দিয়ে
ডাকলো আমায় দূরে।
অবুঝ এক চঞ্চলতা
জাগিয়ে দিয়ে প্রাণে
ঘুম ভাঙালো আমায় তারা
ছুটির গানে গানে।
সকাল বেলায় শিশির ভেজা
ঘাসে চরণ ফেলে
বনের পথে বের হলাম
হারিয়ে যাবো বলে।
দিনের আলো ফুরালো যখন
নামলো আঁধার রাত্রি
অচেনা আঁধারে পথ হারালাম
ছিলো না সহযাত্রী।
অবশেষে পেলাম আমি
চিরদিনের ছুটি
হারিয়ে গেলাম অরণ্যেতে
সকল বাঁধন টুটি।।
ঝড়ের রাতে
মে 27, 2009
বিমূর্ত বেদনা উঠলো জেগে
মনের কোণে আজ গোপনে
যেন নিবিড় ঘন আঁধারে
ছেয়ে গেছে নীল গগনে
কি জানি কি কারনে।
কাল রাতে যখন উঠেছিলো ঝড়
শ্রাবণ গগনে
নিঠুর সে আঘাত হেনেছিলো মোর প্রানে
আকাশ পারে অনেক দূরে
মন হারিয়েছিলো সুদূর পারে।
পান্ডুর ছিলো না আকাশ
বেদনা ছিলো যে আমার মনে
তাই আজ আমার
মন ভেসে যায়
বিষাদের এই গানে।
দীপ নিভে ছিলো ঝন্ঝা নিশীথ রাতে
অন্ধকারে ছিলাম আমি একা
তখনও যে জানতে পারিনি
ঝড়ের বেশে তোমার
পেয়েছিলাম দেখা।।
শ্রাবণরাতের বাদলধারা
মে 18, 2009

সেদিন আমি পারিনি জানতে
বাঁশী তুমি বাজিয়েছিলে
কিসের ব্যথায়
সুর শুধু এসে বেজেছিলো এই প্রানে
জানিনা সেই সুরে ছিলো কি
কোন না বলা কথা।
ব্যাকুল আমি হারিয়েছিলাম
সুরের ঘোরে
বাণী তোমায় দেয়নি যে ধরা
তুমি কেন রইলে দূরে অনাদরে
আমি তখন ছিলাম আপনহারা।
বাদল মেঘের নামলো ধারা
শ্রাবণরাতের পরে
সুর হারালো ছন্দ মিললো
অসীম অন্ধকারে।
উঠলো যখন তারা নীল সন্ধ্যাসাগর কূলে
বিহঙ্গ ঐ পাখা মেলে নীড়ে ফিরে চলে
নীরবে আমি কান পেতে রই আনমনে
যেন শুনি তোমার না বলা কথা
নীরব প্রানে সঙ্গোপনে।।
বিরহের বেণু বাজে
মে 12, 2009

বিরহের বেণু বাজে
নিঠুর বাতাসে কিসের হুতাশে
যে কথা তোমায় হয়নি যে বলা
শুধু লেখা আছে
ঐ মৌন আকাশে।
মনে মনে ভাবি বারে বারে
এই বুঝি এলো
সেই ক্ষন চুপিসারে;
হয় না যে বলা
নীরবে এসে চলে যাই দূরে
হৃদয় বেঁধে পাষাণ ডোরে।
কোয়েলিয়া ডাকে কুহু কুহু
দূরে মহুয়া বনে
নিদ্রাহারা আমি জেগে রই
একা নিশীথ শয়নে।
প্রদীপ শিখা কেঁপে ওঠে যবে
দূর বনে ডাকে কেকা
নিরাশার বালুচরে;
মনে পড়ে সেই বিদায়সন্ধ্যায়
কোন হারানো সুরে
নিরবধি আমি
ভেসে যাই অশ্রুনীড়ে।।
লোডশেডিং আর সেই রাতের গল্প
এপ্রিল 14, 2009

অফিস থেকে বেরিয়ে
রাস্তা পেরিয়ে আসতেই দেখি
নিরেট অন্ধকারে ঢেকে গেছে চারদিক
লোডশেডিং হলো নাকি।
কাজ শেষে বের হতে
বেশ দেরী হয়ে গেলো বলে
বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখি সন্ধ্যার বাসটা
অনেক আগেই গেছে চলে।
পরের বাসের জন্য
অপেক্ষা করতে গিয়ে
বাজলো ঘড়িতে দশটা
মনের মাঝে লাগছিল যেন
কিসের একটা খটকা।
জনহীন অন্ধকারে পথে
হেঁটে চলেছিলাম একা
অমাবস্যার সেই রাতে
ভাবিনি কখনো পাবো তার দেখা।
দুরু দুরু বুকে কি যেন ভেবে
ধরালাম দেশলাইয়ের কাঠি একটা
এমন সময় একটা জীপ এসে
ফেললো হেডলাইটের আলোটা।
গাড়িটা এগিয়ে আসছিলো আমারই দিকে
আমি বেশ জোরে ডাকলাম, ‘এই’
কোন সাড়াশব্দ নেই
নেই কোন ভ্রুক্ষেপ-
শুধু নিঃশব্দে চললো এগিয়ে
আমিও নিরুপায় হয়ে
উঠলাম গাড়িতে লাফিয়ে।
বললাম ড্রাইভারকে লক্ষ্য করে-
‘আমায় পান্থপথে নামিয়ে দিন, তাহলেই হবে’
বলতে গিয়ে গলার স্বর গেলো উবে
রইলাম চেয়ে-
দেখি গাড়িটাতে কোন ড্রাইভারই নেই।
কে যেন ধরলো চেপে গলার চারধারে
আমি উঠলাম প্রানপনে চিৎকার করে
কিন্তু কোন শব্দ এলোনা বেরিয়ে
গাড়িটা চলতেই থাকলো নিঃশব্দে;
ভাবলাম নেমে পড়ি গাড়ি থেকে
হঠাৎ দেখি একটা ট্রেন আসছে অদূরে
গাড়িটা ছুটে চলেছে সেদিকে।
কোনরকমে গাড়ির দরজা টেনে
ছিটকে পড়লাম বাইরে
তারপর…আর কিছু মনে নেই…
তাকিয়ে দেখি আমি রাস্তায় পড়ে
চশমা পরা একটা লোক বেরিয়ে এলো
গাড়িটার পিছন থেকে
বললো, ‘আমাকে একটু সাহায্য করবেন,
গাড়িটা বিগড়ে গেছে আট মাইল দূরে
সেখান থেকে ঠেলতে ঠেলতে এসেছি এতদূরে
সারা পথে পাইনি একজনকেও
আপনি যদি কষ্ট করে………’
অনুভূতিহীন বিবেককে প্রশ্ন
এপ্রিল 11, 2009
প্রথম যেদিন গেলাম
মেডিকেলের এনাটমি ডিসেকশন রুমে
মনে মনে ভাবছিলাম
কেন এলাম হেথা- কিসের ভ্রমে।
দেখি টেবিলে রাখা একটা ঘুমন্ত মানুষ-
না, একটা মৃতদেহ
যার অস্থি-মজ্জা সব দৃশ্যমান
নেই শুধু হৃদস্পন্দন।
তারপরেতে শুরু হলো
শরীরতত্ত্ব শিক্ষা
বিরাম নেই একমূহুর্ত
ক্লাস-টিউটোরিয়াল-পরীক্ষা।
মাঝে মাঝে মনে হতো
আমিও বুঝি
নিস্তব্ধ-নিথর মৃতদেহ এক
ঘুরছে দিন রাত একটা চক্রে
আমার অনুভূতিহীন- বোবা বিবেক।
কখনো সেই
মৃতদেহটার সামনে দাঁড়িয়ে দেখতাম
আমরা আসলে একই ব্যক্তি
দুজনেই মূঢ়-সমস্ত অবয়বে
এক নির্লিপ্ত অভিব্যক্তি
চলেছি একই গন্তব্যে
অহর্নিশি অর্থহীন এই ছুটে চলা
জানিনা শেষ হবে কবে!
(এই কবিতায় শুধু আমি বলতে চেয়েছি আমাদের সব অনুভূতি গুলো কেন ক্রমশঃ হারিয়ে ফেলছি -কেন আমরা প্রতিদিনের খুব ছোট্ট আনন্দের মূহুর্তগুলোকে উপভোগ করতে পারছিনা।
আমরা সবাই কেবলই সেই ‘পরশপাথর’ খুঁজে ফিরছি- আমাদের এই অন্তহীন ছুটে চলা কি কোনদিন শেষ হবেনা…???)
সুখী মানুষের জামা
এপ্রিল 3, 2009
এক দেশের এক রাজা একবার
পড়লেন দূরারোগ্য রোগে
বললেন, ‘শীঘ্র করো এর প্রতিকার
নইলে কারো রক্ষা নাই আর’
রাজ্য মাঝে উঠলো হাহাকার।
মন্ত্রী-পাইক-পেয়াদা সবাই
ছুটলো দিকে দিকে-
রাজ্যের যত ডাক্তার আর কবিরাজকে
আনা হলো রাজগৃহে ঝাঁকে ঝাঁকে।
সবাই বসে চশমা চোখে এঁটে
কেউ নাড়ী টিপে দেখে
কেউবা ছোটে এদিকে সেদিকে।
অবশেষে এলো
বৃদ্ধ এক সন্ন্যাসী রাজগৃহে
বললেন ‘এ রোগ বড় কঠিন,
সারে না কিছুতেই
তবে একটা উপায় আছে
মেলে যদি সুখী মানুষের জামা
তাহলেই রাজা নীরোগ হয়ে
ফিরতে পারেন রাজকার্যে।’
খোঁজ খোঁজ পড়ে গেলো চারদিকে
মন্ত্রী-সেপাই-রাজসভাসদ
ঘুরে ঘুরে হয় ক্লান্ত;
সুখী মানুষ কি নেই তবে একজনও
ভেবে ভেবে হয় শ্রান্ত।
কেটে যায় দিনের পর দিন
এ রাজ্য সে রাজ্য ঘুরে
অবশেষে থামলো এসে এক পর্ণকুটিরে-
‘এই তো সেই সুখী মানুষ’
যাকে খুঁজেছে তারা এতদিন ধরে।
দাঁড়ালো গিয়ে তার দ্বারে-
বললো, ‘চাই তোমার একটা জামা, দাও যদি
পাবে অজস্র ধনসম্পদ আর স্বর্নমুদ্রা
রইবে আনন্দে নিরবধি।’
লোকটি হেসে বলে,
‘জামা পাবো কোথা দীনহীন আমি
সুখের অভাব হয়নি কখনো
ধন-সম্পদ চাই না আমার
পাতায় ছাওয়া এ কুটির মোর
সোনার চেয়েও দামী।’
গানে গানে তব বন্ধন যাক টুটে
মার্চ 26, 2009

আকাশ ভরা সূর্য তারা বিশ্বভরা প্রাণ
তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান।
অসীম কালের যে হিল্লোলে
জোয়ার ভাটায় ভুবন দোলে
নাড়ীতে মোর রক্তধারায় লেগেছে তার টান
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান।
ঘাসে ঘাসে পা ফেলেছি বনের পথে যেতে
ফুলের গন্ধে চমক লেগে উঠেছে মন মেতে
ছড়িয়ে আছে আনন্দেরই দান
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান।
কান পেতেছি চোখ মেলেছি ধরার বুকে প্রান ঢেলেছি
জানার মাঝে অজানারে করেছি সন্ধান
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান।
আমার কন্ঠে এই রবীন্দ্রসঙ্গীতটি শুনতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন:
গানে মোর কোন ইন্দ্রধনু
সকালের সূর্যটাকে
মার্চ 25, 2009
তোমার চোখে যখন
সকালের প্রখর দীপ্তি দেখি
আমার ভীষন ইচ্ছে করে
ঘড়ির কাঁটাটাকে থামিয়ে দিতে
কিন্তু তবুও…
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা আসে
আমি চেয়ে চেয়ে দেখি তোমার বিদায় ক্ষণকে।
তোমার চোখে আমি কখনো বিষাদ দেখিনি
কিন্তু আমি জানি আমার চোখ জুড়ে যেন
বিষাদের এক ঘোর লেগে থাকে
লুকাতে পারিনা কিছুতেই- কোনভাবে
যখন তোমাকে দেখি তড়িঘড়ি করে
ধূসর দিগন্তরেখার কাছে মিলিয়ে যেতে।
রাত নেমে আসে
বিমূর্ত রাতের গভীরতা যেন
মর্মে মর্মে স্পর্শ করতে চায় আমায়
যেন ছিন্ন করতে চায়
আমাদের অদৃশ্য বন্ধনকে;
হয়তোবা হারিয়ে যাই স্বপ্নলোকে
কেটে যায় কিছুক্ষণ …কিছু মূহুর্ত
তারপর চোখ মেলে আবার তোমায় দেখি
মৌন পূব আকাশে
যেন আনন্দভরা দীপ্ত চোখে
তুমি চেয়ে আছো ।
পরশপাথর
মার্চ 14, 2009
সেদিন চলার পথে দেখতে পেলাম
একটা পাথর পড়ে আছে পথের মাঝে
কি যেন ভেবে কুড়িয়ে নিলাম
রেখে দিলাম অগোচরে নিজের কাছে।
পাথরটা দেখতে কিন্তু যেমন তেমন নয় মোটে
কি জানি হয়তোবা সেই পরশপাথরই গেলো জুটে।
বাড়ি ফিরে সন্ধ্যেবেলা
সব দ্বার বন্ধ করে নিজের হাতে
ভালো করে পরখ করে দেখতে গেলাম
কি জানি কি আছে এতে।
হলো না পরখ করা
যখন কে যেন
এসে নাড়লো কড়া।
সারাটা রাত বিনিদ্র মোর কাটিয়ে; প্রাতে
উঠেই চললাম দূরে কোথাও নিভৃতে।
যেতে যেতে মনের মাঝে উঠলো জেগে
কত কথা-কত মধুর ছবি
যেন বিশাল এক সভায়
সবাই মোরে করছে বরণ
আমি এক নবীন কবি
অবশেষে পৌঁছলাম এসে
অনেক দূরে মাঠের শেষে
পাথরটা বের করে দেখবো বলে যেই-
তাকিয়ে দেখি ওমা একি
ছিলাম আমি তন্দ্রাঘোরে পরশপাথর নেই।
(সত্যজিত রায়ের ‘পরশপাথর’ চলচ্চিত্রটি দেখার পর থেকেই ইচ্ছা ছিল এটা নিয়ে একটা সমালোচনা লেখার। সত্যজিত রায় ‘পরশুরাম’ এর গল্প অবলম্বনে এ চলচ্চিত্রটি নির্মান করেন ১৯৫৮ সালে। সিনেমাটিতে হাস্যরস এর মধ্য দিয়ে সমাজের যে চিত্র সত্যজিত তুলে ধরেছেন তা আমাকে ভীষনভাবে আন্দোলিত করেছে। In a letter to film critic Marie Seton, Ray wrote at the time of the films release, “it’s sort of combination of comedy, fantasy, satire, farce and a touch of Pathos”. সত্যজিত স্মরণে তাঁরই ‘পরশপাথর’ অবলম্বনে আমার এ প্রয়াস।)
নিসর্গের কাছে একদিন
মার্চ 10, 2009
পাহাড় বেয়ে গ্রামের পথে চলে গেছে
বালুময় পথ
দুইপাশে উষর প্রান্তরে
কুঁড়েঘরগুলো দাঁড়িয়ে আছে
এখানে ওখানে কালো কালো কাঁটাঝোপ
আর মাথার ওপরে
বিষন্ন বিকেলের আকাশ।
হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেলাম
ভাঙাচোরা একটা পুরনো বাড়ীর পিছনে
শ্যাওলা ধরা ছাদ,
তার ওপর এবড়ো থেবড়ো স্বর্ণলতার ঝোপ।
তখন সবে সূর্য ডুবতে শুরু করেছে
ধুসর-লালচে আভা ছিলো আকাশে
একটা পাখি একটানা ডেকে চলছিলো
কেমন যেন মন উদাস করা একটা ডাক
আগে কখনো শুনেছি বলে মনে পড়ে না।
মৌনতায় ঢেকে গেল -চারদিক
মনে হলো পৃথিবী যেন নিস্তরঙ্গ এক নদী
আর আমি হারিয়ে গেলাম
অসীম নিসর্গ মাঝে।।
জীবনের বন্দনা
মার্চ 6, 2009









